রুশ আকাশসীমা ব্যবহারের সুবিধা

ইউরোপে ব্যবসা বাড়াচ্ছে চীনা এয়ারলাইনগুলো

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে রাশিয়ার আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারছে না পশ্চিমা দেশগুলো।

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে রাশিয়ার আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারছে না পশ্চিমা দেশগুলো। সে সুবিধা বেইজিংকে প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় সাশ্রয়ী খরচে পরিষেবা দেয়ার সুযোগ দিচ্ছে, যা কাজে লাগিয়ে ইউরোপে রুট ও যাত্রী পরিবহনসক্ষমতা উভয়ই দ্রুত সম্প্রসারণ করছে চীনের তিনটি বৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত এয়ারলাইনস। খবর এফটি।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, পশ্চিমা এয়ারলাইনগুলো চীনের সরাসরি ফ্লাইটে ব্যাপক কাটছাঁট এনেছে। গত বছর মূল ভূখণ্ডের কিছু রুট স্থগিত করেছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এয়ারলাইনস, লুফথানসা, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ও ভার্জিন আটলান্টিক। রাশিয়া এড়িয়ে চলার কারণে বাড়তি খরচই সিদ্ধান্তটির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রথম সারির কোম্পানিগুলো।

২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরু করে মস্কো। এরপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়া বেশির ভাগ ইউরোপীয় এয়ারলাইনকে নিজেদের আকাশসীমায় নিষিদ্ধ করে। ফলে চীনসহ এশিয়ার গন্তব্যে আকাশ ভ্রমণে সময় ও জ্বালানি খরচ বেড়ে যায়।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় না পড়ায় চীনা এয়ারলাইনসগুলো শূন্যস্থান পূরণের সুযোগ দ্রুত লুফে নেয়। ফ্লাইট বাড়ানোর পাশাপাশি ক্রমাগত লোকসানের মুখেও কোম্পানিগুলো সস্তায় টিকিট দিচ্ছে।

এ বিষয়ে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি সাংহাইয়ের এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ ডেভিড ইউ বলেন, ‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় এয়ারলাইনস কোম্পানি প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না।’

চীনের প্রধান তিন আন্তঃমহাদেশীয় এয়ারলাইনস হলো এয়ার চায়না, চায়না ইস্টার্ন ও চায়না সাউদার্ন। ডিবিএস ইকুইটি রিসার্চের বিশ্লেষক জেসন সুম জানান, পশ্চিম ইউরোপে এ কোম্পানিগুলো অক্টোবরে কিলোমিটার অনুসারে আসন সরবরাহ ২০১৯ সালের একই সময়ের তুলনায় ১৮ শতাংশ বাড়িয়েছে।

এভিয়েশন খাতের পরামর্শক সংস্থা ইশকা জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য, স্পেন ও ইতালিতে চীনা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যার হার ২০১৯ সালের তুলনায় গত বছরের প্রথম নয় মাসে ২৫-৪৫ শতাংশ পর্যন্ত।

ভাড়া কম রাখার ক্ষেত্রে রাশিয়ার আকাশসীমা ব্যবহারের সুবিধা নিচ্ছে এয়ার চায়নার মতো কোম্পানিগুলো। ইউবিএসের বিশ্লেষক এরিক লিন জানান, সরাসরি রাউন্ডট্রিপ ফ্লাইটের জন্য চীনের তিনটি বৃহৎ এয়ারলাইনসের ভাড়া ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর তুলনায় ৫-৩৫ পর্যন্ত শতাংশ সাশ্রয়ী।

এদিকে ইউরোপীয় এয়ারলাইনগুলো অভিযোগ করেছে, ভূরাজনৈতিক কারণে চীনের কোম্পানিগুলো অন্যায্য সুবিধা পাচ্ছে এবং রুটগুলোয় আধিপত্য বিস্তার করছে।

এক বিবৃতিতে লুফথানসা বলেছে, ইউরোপীয় এয়ারলাইনগুলো চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ‘অত্যন্ত অসম’ অবস্থায় রয়েছে। চীনা কোম্পানিগুলো কম খরচ ও সরকারি সহায়তার সুবিধা পাচ্ছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার আকাশসীমা ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

কোম্পানিটি আরো বলছে, লুফথানসা যখন ফ্লাইট সূচি থেকে পুরনো রুট ফ্রাংকফুর্ট-বেইজিং বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছে, তখন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার ভারসাম্য কতটা পরিবর্তন হচ্ছে তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

পশ্চিমা এভিয়েশন খাতের কিছু কর্মকর্তা চীনা এয়ারলাইনগুলোর ফ্লাইট চাহিদা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কারণ ব্যবসায়িক দিক থেকে এ কার্যক্রম লাভজনক নয় বলে তাদের ধারণা। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও এখানে কাজ করছে। কারণ পর্যটক খাত ধরে রাখতে চীনে ভিসামুক্ত প্রবেশের পরিকল্পনা সম্প্রসারণ হচ্ছে।

চীনভিত্তিক এভিয়েশন খাতের একজন নির্বাহী বলেন, ‘চীনের অর্থনীতি প্রবৃদ্ধি এখনো মন্থর, পর্যটন পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা যায়নি এবং ব্যবসা এখনো পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিদেশীদের প্রবাহ ধরে রাখতে চীনের কানেক্টিভিটি বাড়াতে হবে।’

কিছু পশ্চিমা এয়ারলাইনস চীনের আকাশপথে দুর্বল চাহিদা দেখালেও ইউবিএস জানিয়েছে, প্রধান চীনা এয়ারলাইনসে আন্তর্জাতিক যাত্রী চাহিদা মহামারী-পরবর্তী স্তরে পৌঁছেছে।

চীনা এয়ারলাইনসগুলো সাম্প্রতিক মাসগুলোয় মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি ফ্লাইট বাড়িয়েছে। কারণ এশিয়ার বৃহত্তম এ অর্থনীতির সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড বেড়েছে এবং চীন ও সৌদি আরবের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর হয়েছে।

ইশকার দেয়া তথ্যানুসারে, গত বছরের প্রথম নয় মাসে ২০১৯ সালের একই সময়ের তুলনায় চীনের তিনটি বড় এয়ারলাইনস সৌদি আরবে ফ্লাইট সাত গুণ বাড়িয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফ্লাইট বেড়েছে ৪০ শতাংশ।

আরও